Obiroto - খবর চলতেই থাকে
Obiroto

খবর চলতেই থাকে

Home দেশ রাজ্য বিদেশ বিনোদন খেলাধুলা শরীর স্বাস্থ্য টেক ফিচার গল্প
বিচারপতির 'আরশোলা' মন্তব্য থেকে দল—ভারতের তরুণ প্রজন্মের পাল্টা রাজনৈতিক জবাব
20 May, 2026 1 মিনিট

বিচারপতির 'আরশোলা' মন্তব্য থেকে দল—ভারতের তরুণ প্রজন্মের পাল্টা রাজনৈতিক জবাব

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত 'আরশোলা' মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি' মাত্র তিন দিনে ১ লক্ষেরও বেশি সদস্য সংগ্রহ করে বেকার ও হতাশ ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলনে পরিণত করেছে।

 
প্রতিবেদন : অয়ন্তিকা সান্যাল



 

⚖️ বিতর্কিত মন্তব্য — প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, সুপ্রিম কোর্ট খোলা শুনানিতে "এমন তরুণরা আছে যারা আরশোলার মতো — কোথাও চাকরি নেই, পেশায় কোনো জায়গা নেই। তাদের কেউ মিডিয়া হয়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া হয়, RTI অ্যাক্টিভিস্ট হয়, আর সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।"

— প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত | পরে 'স্পষ্টীকরণ' দিয়ে বলেন মন্তব্যটি যুবসমাজের বিরুদ্ধে নয়

একটি মন্তব্য, একটি রাত, একটি বিপ্লব। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতকক্ষে বলেছিলেন — দেশে এমন কিছু যুবক আছে "যারা আরশোলার মতো, যাদের কোনো চাকরি নেই, কোনো পেশায় জায়গা নেই।" মন্তব্যটি রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ধরিয়ে দিল। এই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) — এবং মূলত Gen Z ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা দলে দলে এতে যোগ দিতে শুরু করলেন। 

১৬ মে, ২০২৬। বোস্টন ইউনিভার্সিটির ৩০ বছর বয়সী PR স্নাতক, প্রাক্তন AAP সোশ্যাল মিডিয়া স্বেচ্ছাসেবী অভিজিত দিপকে X-এ একটি প্রশ্ন ছুড়লেন: "সব আরশোলা এক হলে কী হয়?" — আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জন্ম নিল Cockroach Janta Party (CJP)। পার্টির ওয়েবসাইট, Instagram, X অ্যাকাউন্ট — সব AI টুল Claude আর ChatGPT দিয়ে মাত্র একরাতে বানিয়ে ফেললেন তিনি। তিন দিনে Instagram-এ ৩৫ লাখের বেশি ফলোয়ার, Google Form-এ ১ লাখেরও বেশি সদস্যপদ। তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র থেকে শুরু করে বিহারের প্রাক্তন সাংসদ কীর্তি আজাদ — রাজনীতির ভারী নামরাও 'সদস্য' হলেন এই ব্যঙ্গদলে। প্রধান বিচারপতি পরে 'স্পষ্টীকরণ' দিলেন বটে, কিন্তু ততক্ষণে আরশোলারা দল বেঁধে ফেলেছে।

স্বেচ্ছাসেবী অভিজিত দিপকে এবং Cockroach Janta Party (CJP)

কিন্তু এটা শুধু ব্যঙ্গ নয় — এটা যন্ত্রণার চিৎকার। ভারতে প্রতি বছর ৮০ লক্ষেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়, অথচ তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৯.১ শতাংশ — যা স্কুলে না যাওয়া মানুষদের তুলনায় ৯ গুণ বেশি। চাকরির বাজারে হাহাকার, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, বাড়তে থাকা জিনিসপত্রের দাম — এই পরিস্থিতিতে একজন কর্মরত বা চাকরিপ্রার্থী তরুণ দিনের পর দিন নিজেকে "ব্যর্থ" মনে করতে বাধ্য হচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ মন্তব্য করলেন যে প্রধান বিচারপতির কথায় যুব সমাজ ও সক্রিয় কর্মীদের প্রতি "গভীর কুসংস্কার ও বিদ্বেষ" প্রকাশ পেয়েছে। সেই বিদ্বেষের জবাব দিতেই বেকার, হতাশ, ক্লান্ত — কিন্তু দমে না যাওয়া — ভারতীয় তরুণ প্রজন্ম আরশোলার পরিচয়কেই নিজেদের অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছে।

আমরা আরশোলা — বাঁচতে জানি, লড়তেও জানি! আরও জানতে ক্লিক করুন

CJP-র বিষয়টি শুধু একটি মিম বা ইন্টারনেট জোকস নয় — এটি ভারতের ২৯.১ শতাংশ স্নাতক বেকারত্বের যন্ত্রণার সরাসরি বিস্ফোরণ। প্রতি বছর ৮০ লক্ষ স্নাতক বের হচ্ছেন ভারত থেকে, কিন্তু চাকরির বাজার তাদের ধারণ করতে পারছে না। স্কুলে না-যাওয়া মানুষদের তুলনায় স্নাতকদের বেকারত্বের হার ৯ গুণ বেশি। ১২ বছরের মোদী সরকারের আমলে আয়বৈষম্য, মূল্যবৃদ্ধি, ধর্মীয় বিভাজন আর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে মেডিক্যাল পরীক্ষা বাতিলের ক্ষোভ — সব একসঙ্গে জমছিল। CJP হল সেই জমা ক্ষোভের ভাল্ব। দলের মেনিফেস্টো কৌশলে ব্যঙ্গাত্মক — অবসরের পর বিচারপতিদের রাজনৈতিক পদ পাওয়া বন্ধ করো, মিডিয়া মালিকানায় স্বচ্ছতা আনো, দলবদলকারী নেতাদের বিরুদ্ধে আইন কড়া করো, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, CJP একটি সতর্কবার্তা। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে মানুষ আর ভয়ে চুপ থাকতে রাজি নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় Gen Z-এর ক্ষমতা আগেই দেখা গেছে — শ্রীলঙ্কায় গোতাবায়াকে তাড়ানো, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতন। ভারতে সেই ঢেউ এখন আরশোলার রূপে এসেছে — ব্যঙ্গের মোড়কে, কিন্তু ভেতরে জ্বলন্ত সত্যি নিয়ে। মোদীর BJP-র নামের সাথে মিলিয়ে CJP বানানো একটি রাজনৈতিক পাংচার — গুরুজনেরা হাসছেন, কিন্তু তরুণ প্রজন্ম বুঝছে এর ধার। অভিজিত দিপকে বলেছেন, "বহুদিন ধরে মানুষ চুপ ছিল। এই মুহূর্তটাকে হাসিঠাট্টায় উড়িয়ে দিলে চলবে না।" — আর এটুকু বলতেই লেগেছে মাত্র একটা CJI-এর মন্তব্য, একটা রাত, আর একটা আরশোলার ছবি।

 

Bio: অয়ন্তিকা NSOU PG Journalism এর ছাত্রী, প্রাক্তন জনসংযোগ (PR) পরামর্শদাতা, লেখিকা ও সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট। পেশাগত জগতের বাইরে তিনি বই পড়তে, রান্না করতে, ভ্রমণ করতে এবং সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করতে ভালোবাসেন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজ ও জনকল্যাণ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, অপরাধ এবং বাণিজ্য— এই বিষয়গুলোতে রিপোর্টিং করা তাঁর বিশেষ পছন্দের।

ফেসবুকে শেয়ার করুন টুইটারে শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর