Obiroto - খবর চলতেই থাকে
Obiroto

খবর চলতেই থাকে

Home দেশ রাজ্য বিদেশ বিনোদন খেলাধুলা শরীর স্বাস্থ্য টেক ফিচার গল্প
ফুড অ্যালার্জি বনাম ফুড ইনটলারেন্স: সাধারণ অবহেলাই ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ, সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের
26 May, 2026 1 মিনিট

ফুড অ্যালার্জি বনাম ফুড ইনটলারেন্স: সাধারণ অবহেলাই ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ, সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

অঙ্কিতা দত্ত

খাবারের সামান্য অসঙ্গতিকে সাধারণ পরিপাকজনিত সমস্যা ভেবে অবহেলা করা পরবর্তী সময়ে মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা, বমি বা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে সেটিকে সাধারণত ‘খাবারটি সহ্য হয়নি’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই সাধারণ লক্ষণগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে দুটি ভিন্ন এবং জটিল শারীরিক প্রতিক্রিয়া— একটি হলো ‘ফুড অ্যালার্জি’ (Food Allergy) এবং অন্যটি ‘ফুড ইনটলারেন্স’ (Food Intolerance)। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই দুটির পার্থক্য না বুঝে অবহেলা করলে তা পরবর্তী সময়ে রোগীর জন্য জীবনসংশয়ের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পুনের ‘সূর্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল’-এর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নকুল পাঠক এ বিষয়ে জানান, ফুড অ্যালার্জি এবং ফুড ইনটলারেন্সের লক্ষণগুলো আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও শরীরের ভেতরে এদের কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফুড অ্যালার্জি সরাসরি মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমের (Immune System) সঙ্গে জড়িত। এক্ষেত্রে শরীর কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রোটিনকে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করে এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে ‘হিস্টামিন’ নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে। ফলে অত্যন্ত দ্রুত, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অপরদিকে, ফুড ইনটলারেন্সের সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত পরিপাকতন্ত্রের একটি সমস্যা, যেখানে শরীর কোনো নির্দিষ্ট খাবার হজম বা প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যর্থ হয়। যেমন— ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের ক্ষেত্রে শরীরে দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) হজম করার মতো পর্যাপ্ত এনজাইম থাকে না।

তীব্রতার দিক থেকে এই দুটি সমস্যার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। ফুড অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বকে চুলকানি বা আমবাত, ঠোঁট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ‘অ্যানাফিল্যাক্সিস’ (Anaphylaxis) নামক মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। একটি চিনাবাদাম বা সামুদ্রিক মাছের সামান্যতম অংশও অ্যালার্জির রোগীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।

 

অন্যদিকে, ফুড ইনটলারেন্সের লক্ষণ হিসেবে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে মোচড় দেওয়া, ডায়রিয়া বা মাথাব্যথা দেখা দেয়। এটি সাধারণত খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে; অর্থাৎ অল্প পরিমাণে খেলে হয়তো সমস্যা হয় না, কিন্তু বেশি খেলে অস্বস্তি বাড়ে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অস্বস্তিকর হলেও অ্যালার্জির মতো তাৎক্ষণিক প্রাণঘাতী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলিয়াক ডিজিজ (Celiac Disease)-এর মতো কিছু রোগ আরও জটিল, যা গ্লুটেনজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষতি করে। বর্তমান সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার পরামর্শ দেখে নিজের ইচ্ছামতো খাবার বাদ দেওয়ার (Food Elimination) প্রবণতা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া ডায়েট থেকে দুধ, গম বা বাদাম পুরোপুরি বাদ দিলে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। রোগ নির্ণয় সবসময় ক্লিনিকাল ইতিহাস এবং সঠিক ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সঠিক সময়ে ফুড অ্যালার্জি এবং ইনটলারেন্সের পার্থক্য বুঝতে পারাটাই অনেক সময় একটি মূল্যবান জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

 

 

Bio : আমি অঙ্কিতা, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক লেখালিখিতে আগ্রহী। বর্তমানে NSOU-এর ইন্টার্ন হিসেবে অবিরত -র সঙ্গে কাজ শিখছি।

ফেসবুকে শেয়ার করুন টুইটারে শেয়ার করুন

সম্পর্কিত খবর