এনএসওউ আয়োজিত একদিনের চলচ্চিত্র কর্মশালা: ‘সিনেমার পাঠশালা’
কলকাতা: সম্প্রতি ২৩ মে ২০২৬, কলকাতায় নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে চলচ্চিত্র
নির্মাণের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে একদিনের বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘সিনেমার পাঠশালা’ শীর্ষক
এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের একটি
সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর ধারণা দেওয়া।
সল্টলেক সেক্টর ১-এ অবস্থিত এনএসওউ হেড কোয়ার্টার্সের সুভাষচন্দ্র সভাঘরে সকাল ১১টা থেকে
কর্মশালাটি শুরু হয়।
কর্মশালার সূচনাপর্বে বক্তব্য রাখেন এনএসওউ স্কুল অব হিউম্যানিটিজ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকর্তা
ড. শ্রীদীপ মুখোপাধ্যায়, সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের অধ্যাপক শ্রী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং শ্রী
অরিজিৎ ঘোষ। তাঁদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার গুরুত্ব, প্রাসঙ্গিকতা এবং চলচ্চিত্র শিক্ষার
প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
প্রথম পর্বের প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক, সম্পাদক ও লেখক শ্রী
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। তাঁর পরিচালিত ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ এবং ‘নধরের ভেলা’
দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।

এই পর্বে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে গল্প নির্বাচন, চিত্রনাট্য রচনা, শিল্পী
নির্বাচন, সম্পাদনা, সিনেমাটোগ্রাফি, আবহসঙ্গীত নির্মাণ, প্রযোজনা এবং শেষ পর্যন্ত দর্শকদের
সামনে চলচ্চিত্র উপস্থাপনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তব্যের শেষে
অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
‘সিনেমার পাঠশালা’র দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেন বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক, লেখক ও অভিনেতা শ্রী কুমার চৌধুরী।
তাঁর নির্মিত ‘প্রিয় চিনার পাতা, ইতি সেগুন’ এবং ‘সব খবরই বিশেষ নয়’ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা লাভ
করেছে।
নিজের আলোচনায় কুমার চৌধুরী বিশেষভাবে তুলে ধরেন নবীন চলচ্চিত্র পরিচালকদের সংগ্রাম, প্রস্তুতি
এবং সৃজনশীল যাত্রার নানা বাস্তব দিক। তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল সিনেমার প্রি-প্রোডাকশন,
প্রোডাকশন এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের বিভিন্ন স্তর। গল্পের ভঙ্গিতে তিনি এই পর্যায়গুলি ব্যাখ্যা করেন
এবং উদাহরণ হিসেবে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘প্রিয় চিনার পাতা, ইতি সেগুন’-এর গভীর বিশ্লেষণ করেন।
আলোচনার শেষে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য। চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে তাঁদের কৌতূহল, প্রশ্ন এবং আগ্রহ কর্মশালাটিকে আরও
প্রাণবন্ত করে তোলে।

সব মিলিয়ে, ‘সিনেমার পাঠশালা’ শুধু একটি কর্মশালা নয়, বরং চলচ্চিত্রপ্রেমী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছিল
শেখা, ভাবনা ও সৃজনশীল অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
সারিকা বেগম
সারিকা এনএসওউ পিজি জার্নালিজম-এর ছাত্রী। তিনি কন্টেন্ট রাইটার, আরজে এবং ভিডিও এডিটর হিসেবেও কাজ করেন। বীরভূমের এই মেয়ে ভালোবাসেন নাচ, গান ও সিনেমা। তাঁর পছন্দের বিট বিনোদন, শিক্ষা, কেরিয়ার এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।
